মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন: বাংলাদেশ একটি দেশ, একটি ইতিহাস। ব্রিটিশরা ২০০ বছর
তাদের গোলাম করে রাখে এই দেশকে। তারপর তাদের গোলামির কবল থেকে মুক্ত হয়েছে
১৯৪৭সালে। তারপর থেকে পাকিস্তানের গোলামে পরিণত হয়েছে।
পাকিস্তানিরা কেড়ে নিতে
চাইলো বাঙ্গালীর অধিকার, এমনকি বাঙ্গালীর ভাষাটাকেও কেড়ে নিতে চাইলো। তারপর দীর্ঘ
২৩বছরের রক্তাক্ত ইতিহাস। লাখো বাঙ্গালীর রক্তের বিনিময়ে বাঙ্গালী পেলো
পাকিস্তানিদের শোষণ থেকে মুক্তি। কিন্তু, বাংলাদেশ আসলে কি মুক্তি পেয়েছে।
পাকিস্তান থেকে মাতৃভুমি বাংলাদেশ মুক্তি পেলেও সাত সাথেই প্রানের প্রিয় মাতৃভুমি
বাংলাদেশ ভারতের গোলামে পরিণত হয়ে গেলো। হ্যা, স্বীকার করি বাংলাদেশের বিজয়
অর্জনের ক্ষেত্রে ভারত সাহায্য করেছে। কিন্তু, সেই সাহায্য কি রকম সেটায় বিষয়। এই
ক্ষেত্রে একটা উদাহরন দেয়া যাক, এক গ্রামে একটা সুন্দরী মেয়ে ছিল। একদিন ঐ গ্রাম
থেকে ২/৩ গ্রাম দূর থেকে এক বখাটে ছেলে ঐ মেয়ের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। তখন
বখাটের নজর পড়লো সুন্দরী মেয়েটির উপর। আর বখাটে মেয়েটিকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে
মেয়েটির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। পাশের গ্রামের আরেকটা ছেলে ছিল। এসে ঐ বখাটের কাছ থেকে
মেয়েটিকে রক্ষা করে। এরপর পাশের গ্রামের ছেলেটি মেয়েটিকে একদিন ধর্ষণের হাত থেকে
বাঁচানোর বিনিময়ে প্রতিদিন ধর্ষণ করছে। এখন আপনি দূর গ্রামের ছেলেটির সাথে
পাকিস্তানকে তুলনা করুন। পাশের গ্রামের ছেলেটির সাথে ভারতকে তুলনা করুন। আমরা
১৯৭১সালে পাকিস্তানের গোলামি থেকে মুক্ত হয়েই ভারতের গোলামে পরিণত হলাম। আজ আমাদের
স্বাধীনতা ভারতের কাটা তারে ঝুলে আছে। ভারতের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে বাংলাদেশের
আইন শৃংখলাবাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের বিষয়ে একটি ছোট্ট উদাহরনের
জন্য নিকট অতিত থেকে ঘুরে আসি। যখন ফেলানিকে হত্যা করে যখন ভারত প্রহসনের রায় দেয়।
তখন এই রায় বাংলাদেশের কোন বিবেকসম্পর্ণ মানুষ মেনে নিতে পারেনি। মেনে নিতে পারেনি
ভারতের বিবেকবান মানুষও। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আমরা ফেলানির ভাইয়েরা
যখন কর্মসূচী পালন করতে যাচ্ছিলো তখন তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বাংলাদেশে
থেকে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচী পালন করলে তাদেরকে বাংলাদেশ সরকারের
কোন বাহিনী গ্রেপ্তার করলে তার বিরোধিতা যতই করা হোক। তা মেনে নেয়া যায়। আবার
ভারতে অবস্থান করে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচী দিলে যদি ভারত গ্রেপ্তার
করতো তাহলে সেটাও মেনে নেয়া যায়। কিন্তু, কর্মসূচিটা ছিল ভারতের বিরুদ্ধে
বাংলাদেশের পক্ষে। কর্মসূচির স্থানটাও ছিল বাংলাদেশ, গ্রেপ্তার করেছেও বাংলাদেশ
সরকারের আইন শৃংখলা বাহিনী। তবে কি দাঁড়ালো? এই কাজের পর কেউ যদি বাংলাদেশকে
ভারতের অঙ্গরাজ্য বলে তাহলে সেটা ভুল বলবে না। বাংলাদেশকে যারা স্বাধীন করেছেন
তারা কখনো চাইনি বাংলাদেশ ভারতের গোলামী করুক। তারা কখনো চাইনি আজকের এই বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরিন বিষয়ে যে স্বাধীনতা আজ বাঙ্গালী পাচ্ছে। এইটা কোন স্বাধীনতা
নয়। বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক আজ বাক-স্বাধীনতাহীন। পাকিস্তানের শাসনামলের ২৩বছরের
যতজন না মারা গেছে। গত ৫বছরেই মারা গেছে তার সাথে কয়েকগুন বেশী। পাকিস্তানের
শাসনামালে ভাষা আন্দোলনের গনহত্যা ব্যাতিত আর কোন হত্যাকাণ্ডকে গনহত্যা হিসেবে ধরা
হয় না। তাও বর্তমান সময়ে আইন শৃংখলারক্ষাকারি বাহিনী কতৃ ককয়েকটি গণহত্যার চাইতেও
কমমানুষকে হত্যা করা হয়েছিলো তখন। তখন যেটা গনহত্যা ছিল এখন সেটা হয়ে গেছে খুব
স্বাভাবিক। তখন ৫জনকে হত্যা করা হলেও সেটা গনহত্যা এবং এই গনহত্যাগুলো বিশ্বাঙ্গনে
আলোড়ন সৃষ্টি করতো। অন্যদিকে এখন ১০০জনকে হত্যা করা হলেও সেটা নিয়ে কোন বড় ধরনের
প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। ৫জন ১০জনকে প্রায় প্রতিদিনই হত্যা করা হচ্ছে। এই দেশের
মানুষ কি এই স্বাধীনতা চেয়েছিল? স্বাধিনতার বিয়াল্লিশ বছর পর বিজয় দিবসে
আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে খুন হল স্বাধারন নাগরিক। এতোটা কলঙ্কিত ইতিহাস রচনা করা
হচ্ছে এই মুহূর্তে যা পরবর্তী প্রজন্ম কোনভাবেই ক্ষমা করবে না। একটি স্বাধিন দেশের
স্বাধিনতার বিয়াল্লিশ বছর এই দেশের মানুষ নিরাপত্তাহিন । তাও আইন-শৃংখলারক্ষাকারি
বাহিনীর কাছে। কতটা কলঙ্কিত ইতিহাস। এই স্বাধিনতাই কি চেয়েছিল ত্রিশলক্ষ শহিদ।
এইটাই কি চেয়েছিল নির্যাতিত ২লক্ষ মা বোন। যা চেয়েছি আমরা তা পাইনি। আর যা পেয়েছি
তা আমরা চাইনি। তাইতো স্বাধিনতার বিয়াল্লিশ বছর পরও স্বাধিনয়াতকে খুজি।
